
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সব রেকর্ড ছাড়িয়ে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে, যার ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ, ২০২৬) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন সিদ্ধান্তে প্রতি ভরিতে ২ হাজার টাকারও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, শুধু ২২ ক্যারেট নয়, বরং ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকায়। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে; প্রতি ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ৬ হাজার ৭০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ মনে করায় আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মতে, স্বর্ণের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে অলঙ্কার শিল্পে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিয়ের মৌসুম চলায় মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজুস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দেশের বাজারেও এমন অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে। এর আগে গত ১০ মার্চও স্বর্ণের দাম এক দফা বাড়ানো হয়েছিল, যা গত দুই দিনে স্বর্ণের বাজারকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার প্রায় বাইরে নিয়ে গেছে।