
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল স্থগিত বা পেছানোর কোনো সম্ভাবনা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ফিফা কর্মকর্তাদের মতে, এই টুর্নামেন্টটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এতটাই বিশাল যে এটি কোনো সংঘাতের কারণে বন্ধ করা সম্ভব নয়।
বিশ্বকাপ ‘অনেক বড়’ ইভেন্ট সোমবার ডালাসে আন্তর্জাতিক ব্রডকাস্ট সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা বিশ্বকাপের চিফ অপারেটিং অফিসার হাইমো শিরগি বলেন, “বিশ্বকাপ অনেক বড় একটি আয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর আমরা কড়া নজর রাখছি, তবে টুর্নামেন্টটি নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি বড় সুযোগ এবং এটি কোনোভাবেই স্থগিত করা হবে না।
নিরাপত্তা ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশ অংশ নেবে। বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানসহ কয়েকটি দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে মার্কিন প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে যে ইরান, আইভরি কোস্ট, হাইতি এবং সেনেগালের মতো দেশগুলোর খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ ভিসার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে খেলায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
ইনফান্তিনোর অবস্থান এর আগে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এক সাক্ষাৎকারে এই বিশ্বকাপকে একটি ‘নিখুঁত বৈশ্বিক উৎসব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ভূ-রাজনৈতিক জটিলতাকে পাশ কাটিয়ে বাণিজ্যিক সফলতার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইনফান্তিনোর মতে, এই বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় আসর হতে যাচ্ছে, যা শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়াবে।
যুদ্ধের প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আইসিসির (ICC) বোর্ড সভা স্থগিত করা হয়েছে। তবে ফিফা তাদের অবস্থানে অনড়। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে।