
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানে ইরান কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৩২ ছাড়িয়ে গেছে। তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর পুরো শহর এখন লাশের মিছিলে পরিণত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’-এর বার্তা দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের দাবি, আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (IRGC) পাল্টা ২৩তম দফা হামলার ঘোষণা দিলেও ইসরায়েলি অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে তা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় গত কয়েক দিনে ২১৭ জন নিহত হয়েছেন এবং মাত্র ১০০ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিও ধসের মুখে। কাতার ও ওমান সতর্ক করেছে যে, যুদ্ধ না থামলে যেকোনো মুহূর্তে জ্বালানি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ববাজারে এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেতে পারে।