
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এর দাম এক শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদিন গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৫৭ দশমিক ৩০ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১.৪ শতাংশ বেশি। অথচ মাত্র একদিন আগেই এই দাম গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল, যা বাজারের বর্তমান তীব্র ওঠানামার চিত্রই ফুটিয়ে তুলছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। যখনই কোনো অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে, তখনই বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদে জমা রাখতে শুরু করেন। এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও এদিন ০.৮ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১৬৫ দশমিক ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা নিকট ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সংঘাতের কারণে কেবল তেলের বাজারই নয়, বরং সামগ্রিক বিশ্ব অর্থনীতি এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকা এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা স্বর্ণের বাজারকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা প্রশমিত না হয়, তবে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে, যা সাধারণ অলঙ্কার ক্রেতা থেকে শুরু করে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সবার জন্যই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।