
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পারিবারিক প্রতিহিংসার এক নৃশংস শিকার হয়েছে আট বছর বয়সী শিশু ইরা মনি। প্রতিবেশী বাবু শেখের সঙ্গে শিশুটির বাবা মনিরুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের প্রতিশোধ নিতেই বাবু শেখ নিষ্পাপ এই শিশুটিকে হত্যার এক পৈশাচিক পরিকল্পনা করেন। চকলেট কিনে দেওয়ার নাম করে তাকে বাড়ি থেকে ভুলিয়ে সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, যা শেষ পর্যন্ত এক করুণ ট্র্যাজেডিতে রূপ নেয়।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, বাবু শেখ শিশুটিকে পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। ইরা মনি যখন বাঁচার জন্য চিৎকার শুরু করে এবং সবাইকে ঘটনাটি জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে, তখন বাবু শেখ ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে পালিয়ে যান। রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড় থেকে কোনোমতে নিচে নেমে এলে স্থানীয় নির্মাণ শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করেন। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইরা মনি।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবু শেখকে কুমিরার কাজীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। সীতাকুণ্ড মডেল থানা পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে যে, এটি কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয় বরং চরম নিষ্ঠুরতার এক অনন্য উদাহরণ। ঘটনার পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা বা আরও গভীর কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিষ্পাপ ইরা মনির এই অকাল মৃত্যু স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। সাধারণ মানুষ এই পৈশাচিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বাবার সঙ্গে প্রতিবেশীর বিরোধের দায় কেন একটি ছোট্ট শিশুকে দিতে হলো, সেই প্রশ্নে ভারাক্রান্ত কুমিরা মাস্টারপাড়া এলাকা। বর্তমানে মামলার ফরেনসিক প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে পুলিশ, যার মাধ্যমে ঘটনার সময় অন্য কোনো শারীরিক নির্যাতনের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।