
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ এবং ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতেই আমিরাত এই কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবছে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে এটি হবে সাম্প্রতিক যুদ্ধের ইতিহাসে এক নাটকীয় মোড়, যেখানে সরাসরি একটি মুসলিম দেশ ইরানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করছে গত কয়েক দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। গত ১ মার্চ থেকে আমিরাতের আকাশসীমায় শত শত ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানা দিয়েছে, যার ফলে দুবাই ও আবুধাবির মতো নিরাপদ শহরগুলোতেও জরুরি সতর্কতা জারি করতে হয়েছে। যদিও আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা সফলভাবে নস্যাৎ করেছে, তবুও দেশটির অবকাঠামো ও জননিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই ‘সন্ত্রাসবাদী’ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা যেকোনো আইনি ও সামরিক পথ বেছে নেওয়ার অধিকার রাখে।
বর্তমানে আরব বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে এই হামলা নিয়ে গভীর ক্ষোভ বিরাজ করছে। সৌদি আরব, কাতার ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের এই কর্মকাণ্ডকে ‘বেপরোয়া এবং অস্থিতিশীল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর আগে আমিরাত জানিয়েছিল যে তারা তাদের ভূখণ্ড ইরান বিরোধী কোনো অভিযানে ব্যবহারের অনুমতি দেবে না, কিন্তু ইরানের সরাসরি আক্রমণের পর সেই অবস্থানে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। যদি আমিরাত সত্যিই সামরিক পদক্ষেপে জড়ায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল ইরান-ইসরায়েল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে এক বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।