
চকচকে রুপোলি রূপ দেখে চড়া দাম দিয়ে ইলিশ কিনে বাড়ি ফেরার পর পাতে তোলার পর যদি দেখা যায় তাতে কাঙ্ক্ষিত সেই সুস্বাদু গন্ধ ও স্বাদ নেই, তবে মন খারাপ হওয়াই স্বাভাবিক। বর্তমান বাজারে গঙ্গার সুস্বাদু ইলিশের নামে দেদার বিক্রি হচ্ছে গুজরাত, মহারাষ্ট্র কিংবা মিয়ানমারের ইলিশ। এমনকি মাছ দীর্ঘ সময় তাজা রাখতে অতিরিক্ত লবণ মাখানো নোনা ইলিশও মিশে থাকে সেই ভিড়ে। দেখতে প্রায় তাজা ও চকচকে হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে এই পার্থক্য সহজে ধরা সম্ভব হয় না। ফলে চড়া দাম দিয়ে বহু বাঙালিই স্বাদহীন ইলিশ কিনে প্রতারিত হচ্ছেন। তাই পকেটের টাকা উসুল করতে এবং আসল গঙ্গার ইলিশ বেছে নিতে কেনার আগে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয় যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
বাজারে কোন ধরনের ইলিশ এড়িয়ে চলবেন, তা প্রথমে জেনে নেওয়া দরকার। সাধারণত গুজরাত বা মহারাষ্ট্রের ইলিশ আকৃতিতে বেশ বড় এবং ওজনে ভারী হলেও তাতে গঙ্গার ইলিশের সেই চিরচেনা তেল ও স্বাদ থাকে না। একইভাবে মিয়ানমার বা অন্যান্য অঞ্চলের ইলিশ না চিনলে ঠকতে হয়। এছাড়া মাছ অনেক দিন সংরক্ষণ বা তাজা রাখার জন্য অতিরিক্ত নুন মাখিয়ে রাখা হয়, যা রান্নার পর অতিরিক্ত নোনতা স্বাদ ও কড়া গন্ধ তৈরি করে ইলিশের আসল স্বাদ পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়।
আসল গঙ্গার তাজা ইলিশ চেনার জন্য কেনার সময় কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের ওপর নজর রাখতে হবে:
১. শারীরিক গঠন ও আকার: গঙ্গার ইলিশের মাঝখানটা অপেক্ষাকৃত চওড়া এবং পেট মোটা হয়, অথচ মাথা ও লেজ বেশ সরু থাকে। অন্যদিকে, গুজরাত বা সামুদ্রিক ইলিশের চেহারা কিছুটা চ্যাপ্টা এবং লম্বালম্বি ধরনের হয়। এছাড়া গঙ্গার ইলিশের মাথা শরীরের অনুপাতে বেশ ছোট হয়।
২. ত্বক ও চকচকে ভাব: তাজা গঙ্গার ইলিশের আঁশ হবে উজ্জ্বল ও প্রখর রুপোলি রঙের, যা আলো বা রোদে পড়লে আরও চকচক করবে। মাছে কোনো ধরনের কালচে, তামাটে বা কৃত্রিম রঙের আভা থাকবে না। কানকো বা গায়ে অস্বাভাবিক লালচে ভাব থাকলে বুঝতে হবে রাসায়নিক বা রং মেশানো হয়েছে।
৩. নরম পেট ও চোখ: হাত দিয়ে মাছের পেটের কাছে হালকা চাপ দিলে যদি কিছুটা নরম অনুভূত হয়, তবে সেটি গঙ্গার ইলিশ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি, তাজা মাছের চোখ হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল। চোখ ঘোলাটে, লালচে বা ভেতরের দিকে বসে যাওয়া মানেই মাছটি বাসি।
৪. কানকো ও লেজ: মাছের কানকো উল্টে ভেতরের অংশ দেখলে তা টকটকে লাল বা তাজা রক্তবর্ণ দেখাবে। এছাড়া গঙ্গার তাজা মাছের লেজ শক্ত ও সোজা থাকে, পক্ষান্তরে হিমঘরে রাখা বা বাসি মাছের লেজ নরম ও ঝুলে পড়া প্রকৃতির হয়।
সঠিক উপায়ে এই ছোটোখাটো বিষয়গুলো যাচাই করে কিনলে চড়া দাম দিয়ে আর স্বাদহীন বা সামুদ্রিক ইলিশ কিনে ঠকতে হবে না।