
হিমালয়ে হিমবাহ ধসের জেরে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী বন্যায় নেপালের ক্ষত না শুকাতেই নতুন এক প্রাকৃতিক বিপদের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সীমান্ত এলাকায় ধস ও পলি জমে তৈরি হওয়া নতুন একটি প্রাকৃতিক হ্রদের পানি ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক এই বন্যায় ইতোমধ্যে ৬৩৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও এখনও দুই হাজার চারশ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। হ্রদের পাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় সেখানে চলমান উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হিমবাহ ও ভূমিধসের কারণে ওই এলাকায় মূলত দুটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ওপরের হ্রদটি হিমবাহ গলে যাওয়া পানি আটকে তৈরি হলেও নিচের লহেন্দে নদীর ওপর তৈরি হওয়া হ্রদটি আকারে অনেক বড় এবং বিপজ্জনক। চীনা পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটিতে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমে রয়েছে এবং আগামী তিন দিনে তা দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৫০ লাখ ঘনমিটারে পৌঁছাতে পারে, যা প্রায় ১২০০টি অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুলের পানির সমান। আলগা পাথর, বরফ ও কাদার তৈরি এই প্রাকৃতিক বাঁধ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে গেলে নিমিষেই প্রলয়ংকরী বন্যা নেমে আসতে পারে।
এই সম্ভাব্য বিপর্যয় এড়াতে চীন থেকে একটি প্রকৌশলী দল পাঠানো হলেও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর উজানে অবস্থিত এই হ্রদের কারণে নদীর গতিপথ সংকুচিত হয়ে গেছে। গবেষকরা বলছেন, প্রাকৃতিক এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব না হলেও স্যাটেলাইট ও ড্রোনের মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি, সময়মতো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং নেপাল ও চীনের মধ্যে শক্তিশালী আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব।