
সিরিজজুড়ে পাকিস্তান দলের পারফরম্যান্স যতই অনুমেয় ও হতাশাজনক হোক না কেন, মোহাম্মদ আব্বাসের ক্ষেত্রে ‘অনুমেয় হওয়াটা’ যেন এক আশীর্বাদ। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে মেঘাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিবিঘ্নিত আবহাওয়ায় ঠিক নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে বল করে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামিয়েছেন এই অভিজ্ঞ পেসার। সালকোটের একটি সাধারণ পিচ থেকে শুরু করে জ্যামাইকা, দুবাই কিংবা বাংলাদেশের ধুলোবালি সব জায়গায় একই লেংথে নিখুঁত ডেলিভারি করার যে মন্ত্র আব্বাস রপ্ত করেছেন, লর্ডসের উইকেটেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ম্যাচের শুরুতেই বেন ডাকেটকে ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফেরান আব্বাস। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের ৯০০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং গত এক বছরে বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ১০০ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়েন। শুধু ডাকেটই নন, ইংল্যান্ডের সেরা ব্যাটার জো রুটও তাঁর দুর্দান্ত সুইংয়ের সামনে টিকতে পারেননি। রুটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে পাকিস্তানের পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস খুব সহজভাবেই তাঁর সাফল্যের রহস্য তুলে ধরে বলেন, তিনি নিজের শক্তির জায়গাটিতেই মনোযোগ দেন এবং ব্যাটারদের দুর্বলতা অনুযায়ী বল করার পরিকল্পনা করেন। কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা এবং লর্ডসের ঐতিহ্যবাহী কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তাঁকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা নির্ভুল বারে পরিণত করেছে। প্রথম দিনের শেষভাগে আব্বাসের এই অনুমেয় অথচ দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স কেবল লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম লেখানোর সুযোগই তৈরি করেনি, বরং দুর্দশাগ্রস্ত পাকিস্তান দলকে নতুন করে লড়াই করার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।