
নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় গত বুধবার ভোতি কোশি নদীর আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) ভোরের দিকে নেপাল পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এ পর্যন্ত দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে মোট ৪৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি নাগরিকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
গত ২৬ আগস্ট তুষারধসের ফলে সৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদ বা ‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ ভেঙে এই ভয়ংকর হড়পা বান দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে নেপালের রাসুয়া এবং চীনের তিব্বতের গিরং জেলার ওপর। লাখ লাখ টন কাদা, পাথর ও জঞ্জালের স্তূপে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জনপদ। পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্গম ও কাদা-পাথরে ঢাকা এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে চরম বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকর্মীদের। নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে জীবিতদের উদ্ধারের পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন এলাকায় জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। অন্যদিকে, স্বজনহারা মানুষদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে রাসুয়া ও এর আশপাশের এলাকার পরিবেশ।