
নেপাল ও চীন সীমান্তে ঘটা সাম্প্রতিক এক প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। হিমবাহ ধস ও তীব্র স্রোতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। এছাড়া এই আকস্মিক দুর্যোগে নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন, যাদের একটি বড় অংশই ভারত ও অন্যান্য দেশের বিদেশি পর্যটক। ২০১৫ সালের ভয়াল ভূমিকম্পের পর এটিকে নেপালের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোর্খা, তানাহুঁ এবং নওয়ালপুর জেলাগুলো এই আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলোর মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে নারী-পুরুষের পাশাপাশি বহু মানুষের প্রাণহানির খবর মিলেছে। এদিকে নেপাল পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ থাকা ৪০৩ জনের মধ্যে ৩৪০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এর মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জনসহ মোট ২৬টি দেশের নাগরিক এবং ৬১ জন নেপালি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। জানা গেছে, নিখোঁজ এসব পর্যটকদের বেশির ভাগই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী পবিত্র মানস সরোবর তীর্থযাত্রার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
নদীর তীব্র পানির তোড়ে মুহূর্তের মধ্যে আস্ত গ্রাম, কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি ও জনবসতি কাদামাটির নিচে তলিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের খবর পাওয়ার পর থেকেই নেপাল সরকার এবং সেনাবাহিনী দ্রুত তৎপরতা শুরু করেছে। উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকাজ চালানোর জন্য বিশেষ হেলিকপ্টার ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে সীমান্তসংলগ্ন তিব্বতের গিরং অঞ্চলেও ভূমিধসে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানেও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিব্বত অঞ্চলে সংঘটিত তীব্র ভূকম্পন কিংবা হিমবাহ ধসের কারণে নদীর উজানে আকস্মিক এই জলস্ফীতি ও বন্যার সূত্রপাত হয়। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইসিমোডের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নদীর উজানে এখনো কিছু স্থানে প্রতিবন্ধকতা বা প্রাক-বম বা কৃত্রিম হ্রদের মতো পরিস্থিতি বজায় থাকায় যেকোনো মুহূর্তে দ্বিতীয় দফায় আবারও বন্যা দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মর্মান্তিক এই প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে দুর্গত এলাকায় সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।