
ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’। এর আগে শনিবার ভোরে তেহরানের এক সুরক্ষিত ভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি এবং তাঁর শীর্ষ সহযোগীরা প্রাণ হারান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই অভিযানের সাফল্য দাবি করে জানান যে, খামেনির মতো একজন ব্যক্তি তাঁদের অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি এড়াতে পারেননি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, শনিবার ভোরে হামলার সময় খামেনি তাঁর সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি, সাবেক সচিব আলি শামখানি এবং রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোরের সঙ্গে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত স্থানে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলায় খামেনির পাশাপাশি ওই বৈঠকে উপস্থিত সব শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, খামেনির প্রাসাদটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং চারপাশ কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে, যা সেখানে বিশাল কোনো বিস্ফোরণের সাক্ষ্য দিচ্ছে। এই হামলায় খামেনির পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁর মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ইরানি জনগণের জন্য ‘ন্যায়বিচার’ এবং দেশ পুনরুদ্ধারের ‘সবচেয়ে বড় সুযোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, খামেনির রক্তপিপাসু শাসনের অবসান ঘটিয়ে ইরানকে তাঁর হৃত গৌরব ফিরিয়ে দেওয়ার এখনই সময়। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, আইআরজিসি এবং পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যই এখন নিরাপত্তা বা ইমিউনিটি চাচ্ছেন এবং তাঁরা আর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। খামেনির এই আকস্মিক ও নাটকীয় প্রয়াণে ইরান সরকার দেশজুড়ে ৭ দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তেহরানের আকাশসীমা এখনও বন্ধ রয়েছে এবং পুরো দেশ এক গভীর অনিশ্চয়তা ও শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।