
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার আমজাদনগর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পর মো. সুজন (২৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবককে আটক করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তাকে ভারতের বিলোনিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উত্তর কোলাপাড়া-আমজাদনগর সীমান্তের ২১৬৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছাকাছি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত সুজন পরশুরাম পৌরসভার দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বেলাল মিয়ার ছেলে। সীমান্ত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সুজন আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে আমজাদনগর শ্মশানঘাট এলাকায় চলে যান। পরবর্তীতে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বাংলাদেশে ফেরার পথে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফ সদস্যরা তাকে ঘেরাও করে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ হেরোইন ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে বিএসএফ ও সংশ্লিষ্ট মহলের মাদকের এই দাবির সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেছেন আটক সুজনের স্ত্রী আয়েশা আক্তার। গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে তার স্বামী কোনো ধরনের চোরাচালান বা অবৈধ কাজের সঙ্গে জড়িত নন। ঘটনার দিন দুপুরে মূলত রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতেই তিনি সীমান্ত এলাকার দিকে গিয়েছিলেন। আয়েশার ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরের স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সুজনের পূর্বশত্রুতা ও বিরোধ চলে আসছিল। সেই পুরোনো ক্ষোভের জেরে পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষরা তাকে ফাঁদে ফেলে বিএসএফের হাতে ধরিয়ে দিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদকের মামলা সাজানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, সুজনকে সম্পূর্ণ চক্রান্তমূলকভাবে আটক করা হয়েছে এবং তারা বিষয়টি নিয়ে যথাযথ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন যে, সীমান্তের ওপারে ভারতীয় ভূখণ্ডে মাদকসহ সুজনকে আটক করার বিষয়টি সম্পর্কে বিজিবি সম্পূর্ণ অবগত রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।