
গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর আমলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থি সরকার। এর ফলে দেশটিতে পুনরায় ইসরাইলে কয়লা রপ্তানির দরজা উন্মুক্ত হলো। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়াকে পাশে রেখে এক যৌথ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই বহুল আলোচিত রপ্তানি অনুমোদনের নির্বাহী আদেশ কার্যকরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন কলম্বিয়ার নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী মাউরিসিও গোমেজ আমিন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পনেরো দিনের মাথাতেই নীতিগত এই পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে বর্তমান প্রশাসন ইসরাইলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনরায় জোরালো করার স্পষ্ট বার্তা দিল।
মূলত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশ অমান্য করে রাফাহ ও গাজা অঞ্চল থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার না করার প্রতিবাদে তৎকালীন পেত্রো প্রশাসন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার ধারাবাহিকতায় গত বছর পেত্রো সরকার ইসরাইলে তাপীয় কয়লা রপ্তানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এক সময় ইসরাইলের কয়লা আমদানির প্রধান উৎস ছিল কলম্বিয়া এবং এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইসরাইলের মোট তাপীয় কয়লার প্রায় ৬০ শতাংশই আসত কলম্বিয়া থেকে। বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী মাউরিসিও গোমেজ আমিন সাবেক প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তকে একটি আদর্শিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা সম্পূর্ণ বাতিল করেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই বর্তমান প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া ইসরাইলের সঙ্গে কলম্বিয়ার সম্পর্ক অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত ৭ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বর্তমান সরকার একের পর এক ইসরাইলবান্ধব কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। যার সুদূরপ্রসারী অংশ হিসেবে দেশটির সঙ্গে পুনরায় আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, সিরিয়ার অধিকৃত কৌশলগত গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলি সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি প্রদান এবং তেল আবিব থেকে কলম্বিয়ার দূতাবাস বিতর্কিত জেরুজালেমে স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সাবেক পেত্রো প্রশাসনের ইসরাইলবিরোধী অর্থনৈতিক কূটনীতির সম্পূর্ণ বিপরীতে হেঁটে নতুন এই প্রশাসনের হাত ধরে ইসরাইল ও কলম্বিয়ার মধ্যকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।