প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 25, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 25, 2026 ইং
শুভেন্দুর বক্তব্যে ক্ষুব্ধ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ দাবি

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবার এক নতুন ও উত্তেজনাকর মোড় নিয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার অভিযোগ, সরকারি দপ্তরে বসে তাকে প্রকাশ্যে এমন সব ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়েছে যা মূলত তাকে নিজ বাসভবনের বাইরে বের হতে না দেওয়ার নামান্তর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিবৃতিতে মমতা এই ঘটনাকে ভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক অত্যন্ত নিম্নমানের ও নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন। একজন নির্বাচিত রাজনৈতিক নেত্রীকে এভাবে প্রকাশ্যে ভয় দেখানো কেবল রাজনৈতিক অসৌজন্যই নয়, বরং দেশের মূল গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধান প্রদত্ত চলাফেরার স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এই পুরো ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের রাষ্ট্রপতি ভবন এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর প্রধান বিচারপতির জরুরি ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তার মতে, সংবিধান নাগরিকদের যে মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়, এ ধরনের বক্তব্য তার সরাসরি লঙ্ঘন। শুভেন্দুকে আক্রমণ করে তিনি আরও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তাকে এমন কোনো ব্যক্তির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ভুল হবে যারা সহজে একনায়কতন্ত্রের কাছে মাথা নত করতে অভ্যস্ত। এই পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমন প্রকাশ্য হুমকি এবং সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার প্রার্থনার ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলছে, যা ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা ফাইলস ২০২৬