
বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী ধারার পর অবশেষে কিছুটা কমেছে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে স্বর্ণের দামে এই পতন দেখা যায়, যদিও ঠিক এর আগের দিনই এর দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৪০ দশমিক ৩৯ ডলারে নেমে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার অপরিবর্তিত থেকে ৪ হাজার ৬৯৫ ডলারে অবস্থান করে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িকভাবে এই দরপতন ঘটলেও স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বেশ শক্তিশালী রয়েছে এবং দাম কিছুটা কমলে ক্রেতারা আবারও বাজারে সক্রিয় হতে পারেন, যার ফলে ভবিষ্যতে এর দাম নতুন প্রতিরোধস্তর বা ৪ হাজার ৯০০ থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ড পুনঃক্রয় কার্যক্রমে তারল্য সহায়তার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, কারণ এর ফলে মার্কিন ডলারের মূল্য হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যা স্বর্ণের বাজারকে বাড়তি সমর্থন জুগিয়েছিল। সাধারণত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির বিপরীতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চড়া সুদের হার বাজারকে প্রভাবিত করে থাকে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও স্বর্ণের বাজারে পরোক্ষ প্রভাব রাখছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে ইরানের পাল্টা হুশিয়ারির পর বাজারে বিনিয়োগের প্রবণতা পরিবর্তিত হচ্ছে। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে, যার মধ্যে রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ০১ ডলারে নেমে এসেছে এবং প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও যথাক্রমে ১ দশমিক ২ ও ১ শতাংশের মতো হ্রাস পেয়েছে।