
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং এর ফলে ব্যাপক প্রাণহানির জন্য বিগত সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও প্রকৃতিবিরোধী অবকাঠামো নির্মাণকে দায়ী করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকার কেবল রাজনৈতিক সুবিধা বা দলীয় নেতাকর্মীদের ঠিকাদারি ব্যবসা দেওয়ার লক্ষ্যে একের পর এক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি হাওরের মাঝ দিয়ে সড়ক নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করেন, যা স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করেছে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করেছে। বিশেষ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাড়ির যাতায়াতের সুবিধার জন্য নির্মিত সড়কটি কীভাবে এলাকাটিতে বন্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে, সে বিষয়টির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকার কেবল একটি বিশেষ দেশকে খুশি করতেই রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো পরিবেশবিরোধী প্রকল্প হাতে নিয়েছিল, যা আজ সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্যকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। তার মতে, উন্নয়নের নামে ধ্বংসাত্মক এই কর্মকাণ্ডই আজ সাধারণ মানুষের জীবনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে দেশের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে সাবেক রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বিএনপির দেশব্যাপী শোক পালনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। শোকের অংশ হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন এবং কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার বার্তা দেন।