
ফেনীর দাগনভূঞায় প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া ও আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আব্দুল লতিফ নামের এক সরকারি কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লতিফ দাগনভূঞা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বুধবার রাতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার ফেনী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী প্রবাসীর ভাষ্যমতে, কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী মীর হোসেনের স্ত্রী মালেকা হোসেনের সঙ্গে প্রায় দুই বছর ধরে আব্দুল লতিফের অবৈধ সম্পর্ক চলছিল। প্রবাসে থাকার সুযোগে লতিফ বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে মালেকার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। বিষয়টি জানার পর প্রবাসী মীর হোসেন দেশে ফিরে লতিফকে এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলে লতিফ উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মালেকার আপত্তিকর ভিডিও রয়েছে দাবি করে লতিফ তাকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। সম্পর্ক ছিন্ন করলে সব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রতিকার চেয়ে মীর হোসেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানালেও কোনো ফল পাননি। উল্টো লতিফ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী ফেনী জেলা দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দাগনভূঞা উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা রবিউল হোসেন জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম পুরো বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে দ্রুত জেলা অফিস থেকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে অভিযুক্ত আব্দুল লতিফ ফেনী কারাগারে বন্দী রয়েছেন।