
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাম্প্রতিক রায়ের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের অধিকার ফিরে আসার পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী জাতীয় নির্বাচন একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে। সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এটিকে তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করেন।
মন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার ধারণাটি দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে বিএনপি পার্লামেন্টে ত্রয়োদশ সংশোধনী বিল আনার মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি সাংগঠনিক রূপরেখা প্রদান করেছিল। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর ধরে ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে যে নিরন্তর সংগ্রাম চালানো হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্যই ছিল ভোটের অধিকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সেই অঙ্গীকার থেকেই সরকার এখন এই প্রক্রিয়ায় ফিরে আসতে বদ্ধপরিকর।
নির্বাচনকালীন এই সরকার ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় বা কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ প্রশস্ত হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে এখন স্বস্তির আভাস দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই ব্যবস্থা ফিরে পাওয়া, যা এখন বাস্তবায়নের পথে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মামলা-মোকদ্দমার এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনমন্ত্রীর এই আশ্বাসে আগামী নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা এখন অনেকখানি বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।