
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে রোববার দিবাগত রাত ২টায় নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে এক ঐতিহাসিক ফুটবল যুদ্ধের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ব। যেখানে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে শক্তিশালী নরওয়ে। দুই দলের বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই ম্যাচটি অন্যরকম এক অভিজ্ঞতার নাম, কারণ দীর্ঘ দুই দশক ধরে দল দুটির মধ্যে কোনো প্রতিযোগিতামূলক লড়াই হয়নি। নরওয়ে কোচ স্টালে সোলবাকেন শিষ্যদের জন্য নিশ্চয়ই বিশেষ কোনো রণকৌশল সাজাচ্ছেন, তবে হালান্ডদের জন্য এবারের ম্যাচটি কেবলই মাঠের লড়াই নয়, বরং এক পারিবারিক গৌরবের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর সুযোগ।
নরওয়ের বর্তমান দলের সদস্যরা চাইলে তাদের পূর্বসূরিদের কাছ থেকে ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াইয়ের গল্পগুলো সংগ্রহ করে নিতে পারেন। আর্লিং হালান্ড এবারের বিশ্বকাপে হ্যারি কেইনের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করে দারুণ ফর্মে আছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দিতে হালান্ডই নরওয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। মজার বিষয় হলো, হালান্ড চাইলে ১৯৯৭ সালে নরওয়ের সেই ঐতিহাসিক ৪-২ গোলের জয়ের স্মৃতি তার বাবা আলফি হালান্ডের কাছ থেকে সরাসরি শুনে নিতে পারেন। আলফি নিজে সেই ম্যাচে দলের রাইট ব্যাক হিসেবে মাঠ দাপিয়ে বেড়িয়েছিলেন। তার অভিজ্ঞতা ও অনুপ্রেরণা আজ আর্লিং হালান্ডের জন্য বড় পাথেয় হতে পারে।
কেবল হালান্ডই নন, আলেকজান্ডার শরলথ বা ক্রিশ্চিয়ান থর্সভেডের মতো খেলোয়াড়রাও তাদের বাবার অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলার রসদ নিতে পারেন। আলেকজান্ডার শরলথের বাবা গোরান শরলথ ১৯৮৮ সালের প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে ছিলেন। একই বছর নরওয়ের গোলপোস্ট সামলেছিলেন এরিক থর্সভেড, যিনি বর্তমানে মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান থর্সভেডের বাবা। পরিবারের পূর্বপুরুষদের এমন গৌরবময় ইতিহাস নরওয়ে দলকে মানসিকভাবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।
পরিসংখ্যানের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের রেকর্ড অবিশ্বাস্য। এখন পর্যন্ত চারটি ম্যাচ খেলে নরওয়ে একবারও হারের মুখ দেখেনি। ১৯৮৮ ও ১৯৯৭ সালের প্রীতি ম্যাচের সেই দুর্দান্ত ফলাফলগুলোর পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২-১ গোলের সেই বিখ্যাত জয় নরওয়ের ফুটবলের সবচেয়ে বড় স্মৃতির একটি। এমনকি ২০০৬ সালে সবশেষ সাক্ষাতেও তারা ড্র করেছিল। এত সব অম্লমধুর স্মৃতি আর বাবার অজেয় থাকার গল্পগুলো হালান্ডদের আজ নতুন কোনো রূপকথা লেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে কি না, তা দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
ব্রাজিলের বিপক্ষে নরওয়ের এই অভাবনীয় পরিসংখ্যান কি আজও বজায় থাকবে, নাকি ব্রাজিল এবার তাদের প্রতিশোধ নিতে সফল হবে? আপনার কী মনে হয়, আজকের ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা কোন দলের বেশি? আপনার মতামত শেয়ার করতে পারেন।