
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে স্থাপিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ মাস্ক পরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় উত্তাল পুরো জেলা। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কতিপয় নেতাকর্মী পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালিয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মো. রনি নামে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক সিনিয়র সহ-সভাপতিকে আটক করেছে। আটক রনি জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতির বড় ভাই বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
কলেজের নৈশপ্রহরী সেনময় ত্রিপুরার ভাষ্যমতে, ঘটনার রাতে দুই যুবক ‘সাংগঠনিক কাজ’ আছে বলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। এর কিছুক্ষণ পরেই স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে আগুনের শিখা দেখা যায়। স্মৃতিস্তম্ভটি লোহা দিয়ে তৈরি হওয়ায় এবং বৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে এটি রক্ষা পেয়েছে। তবে হামলাকারীরা স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরানোর দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের বোতলসহ আলামত সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্গলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ছাত্র প্রতিনিধি জাহিদ হাসান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়া মানেই শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগকে অপমান করা। তিনি একে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মন্তব্য করে সারাদেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা বলে দাবি করেছেন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি মো. কায় কিসলু জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আটক মো. রনিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। হামলাকারীদের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে এবং পলাতক অন্যদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান চলমান রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি মুছে ফেলার এমন অপচেষ্টা ও নাশকতার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে