
ইতিহাসের দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা কানাডা এবং বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য পুনরায় প্রমাণ করতে মরিয়া মরক্কো বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পরবর্তী নকআউট ম্যাচে এই দুই দলের লড়াই ঘিরে ফুটবল বিশ্বে এখন চরম উত্তেজনা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে গোটা দেশকে উচ্ছ্বাসে ভাসিয়েছে কানাডা। অন্যদিকে, ২০২২ সালের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো প্রমাণ করতে চায় যে তাদের সেই সাফল্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই ফল।
কানাডার কোচ জেসি মার্শ মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটিকে এক ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে বর্ণনা করলেও তার দলের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। জোনাথন ডেভিডের ফর্ম এবং চোট কাটিয়ে আলফোনসো ডেভিসের প্রত্যাবর্তনে কানাডা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে পাওয়া প্রথম নকআউট জয়ের আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করেই তারা কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চায়। অন্যদিকে মরক্কো দল তাদের ভারসাম্যপূর্ণ একাদশ নিয়ে বেশ গোছানো ফুটবল খেলছে। আশরাফ হাকিমির গতিময় দৌড় এবং ইসমাইল সাইবারির গোল করার ক্ষমতা তাদের আক্রমণভাগকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলেছে। ইয়াসিন বোনু গোলবারের নিচে বরাবরের মতোই প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে আছেন, যা তাদের রক্ষণভাগকে করেছে অভেদ্য।
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে মরক্কো কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এর আগে তিনবারের দেখায় দুটি জয় এবং একটি ড্র নিয়ে তারা কানাডার চেয়ে এগিয়ে। ২০২২ সালের গ্রুপ পর্বে কানাডাকে ২-১ গোলে হারানোর স্মৃতি মরক্কোর খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। স্বাগতিক কানাডার জন্য এই ম্যাচ কেবল আরেকটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং নিজেদের মাটিতে নিজেদের ফুটবল মানচিত্রকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুযোগ।
কৌশলগতভাবে ম্যাচটি হবে কানাডার দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ এবং মরক্কোর বলের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই। কানাডা যদি ডেভিস ও ডেভিডকে কাজে লাগিয়ে মরক্কোর রক্ষণভাগে ফাটল ধরাতে পারে, তবে বড় অঘটন ঘটানো অসম্ভব নয়। আবার মরক্কো যদি মাঝমাঠের দখল ধরে রেখে হাকিমির ওভারল্যাপের মাধ্যমে আক্রমণ তৈরি করতে পারে, তবে তাদের অভিজ্ঞতা কানাডার জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এক দিকে কানাডার ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার স্বপ্ন, অন্য দিকে আটলাস লায়ন্সদের বিশ্বমঞ্চে গর্জন ম্যাচটি যে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য মহাকাব্য হতে চলেছে, তা নিশ্চিত।