
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেক্সিকোর কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পরপরই এক নাটকীয় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন ইকুয়েডর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান বেকাসেসে। ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকায় পরাজয়ের যন্ত্রণা নিয়ে মাঠ ছাড়ার পরই আর্জেন্টাইন এই কোচ ঘোষণা করেন যে, তিনি আর ইকুয়েডর দলের দায়িত্বে থাকছেন না। ৪৩ বছর বয়সী এই কোচের জন্য এই বিদায় কেবল একটি পরাজয়ের পরিণতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের স্বপ্নের সমাপ্তিও বটে।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বেকাসেসে স্পষ্ট করেছেন যে, তার চুক্তির শর্ত ছিল বিশ্বকাপ পর্যন্ত। ইকুয়েডরকে তাদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতে না পারায় নিজের নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কথা বলার সময় কোচের কণ্ঠে স্পষ্টতই বিষাদের ছাপ ছিল এবং তিনি আক্ষেপ করে জানান যে, দলটির সাথে তার আরও দীর্ঘ পথ চলার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু নকআউট পর্ব থেকে দলের বিদায়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোকেই পেশাদারিত্বের পরিচয় বলে মনে করেছেন।
মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি স্বীকার করেছেন যে, স্বাগতিক সমর্থকদের বিশাল চাপের মুখে তার দল প্রথমার্ধে অনেকটাই ছন্দহীন ছিল। প্রতিপক্ষের গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে লড়াই করাটা কঠিন হয়ে পড়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের হারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বেকাসেসে যদিও ব্যক্তিগতভাবে অনেক ব্যথিত, তবুও পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তার দল যে তরুণ শক্তির পরিচয় দিয়েছে, তা নিয়ে তিনি গর্বিত। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান এই তরুণ খেলোয়াড়রাই ইকুয়েডর ফুটবলের আগামীর রূপকার। বিদায়লগ্নে ফেডারেশন, খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, তাদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা এবং সমর্থন তার ক্যারিয়ারের সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে।