
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের কথা ভাবছেন মরক্কোর তারকা ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউই। বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা ২৮ বছর বয়সী এই রাইট-ব্যাক জানিয়েছেন, ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে তিনি পুরোপুরি মনোযোগ দিতে চান পবিত্র কোরআন মুখস্থ করা এবং ধর্মীয় সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার দিকে।
চলতি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে গত মার্চে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাজরাউই স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেন, এই মেগা টুর্নামেন্টই হতে পারে আন্তর্জাতিক আসরে তার শেষ উপস্থিতি। সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের আধ্যাত্মিক লক্ষ্য প্রকাশ করে বলেন:
"আমি হয়তো বিশ্বকাপের পর অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবন খুব ছোট। আমি পুরো কোরআন মুখস্থ করতে চাই এবং একদিন মসজিদের ইমাম হতে চাই।"
চলতি জুনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মরক্কোর ম্যাচগুলো শুরু হওয়ার পর তার এই মন্তব্যটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমে নতুন করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ১-১ ড্র এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে মরক্কোর রক্ষণভাগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন মাজরাউই। মাঠের তুমুল ব্যস্ততার মাঝেও তার এমন ধর্মীয় ও আত্মিক ভাবনা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
কোরআন মুখস্থ করা বা ‘হিফজ’ সম্পন্ন করা একটি দীর্ঘ ও নিবিড় প্রক্রিয়া, যার জন্য বছরের পর বছর গভীর অধ্যবসায় প্রয়োজন। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম হওয়ার জন্য শুধু কোরআন মুখস্থই নয়, প্রয়োজন গভীর ইসলামিক ধর্মতত্ত্বের জ্ঞান ও সমাজকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিশেষ দক্ষতা। মাজরাউই ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে থেকেই এই কঠিন কিন্তু পুণ্যময় পথ বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি তার এই টান কেবল কথার মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ইসলামিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ওয়াহেদ (Wahed)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। শরিয়াহ-সম্মত এই বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মটির কৌশলগত অংশীদার ও শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কাজ করছেন তিনি, যা তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও জীবনদর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সব মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বের এই আলোচিত তারকার মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের এই মহৎ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন ক্রীড়াঙ্গন ছাড়িয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরেও প্রশংসিত হচ্ছে।