
টাঙ্গাইলের মধুপুরে একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যাওয়া ছাগল ছানা উদ্ধার করতে গিয়ে বিষাক্ত গ্যাস বা অক্সিজেন সংকটে বাবা-ছেলেসহ গারো নৃ-গোষ্ঠীর ৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ৮টার দিকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের মধুপুর বনাঞ্চলের টেলকি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কূপ থেকে লাশগুলো উদ্ধার করে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো আদিবাসী পল্লী ও স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য লাল মিয়াসহ এলাকাবাসী জানান, টেলকি গ্রামের বাবুল হাদিমার একটি ছাগল ছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিমের মসজিদ এলাকার একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ওই ছাগল ছানাটি উদ্ধার করতে প্রথমে কূপে নামে বাবুল হাদিমার ১২ বছর বয়সী ছেলে নেইমার ম্রং। কিন্তু কূপে নামার পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও নেইমারের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না।
ভেতরে ছেলের বিপদের আশঙ্কা করে তাকে বাঁচাতে দ্বিতীয়বার কূপে নামেন বাবা বাবুল হাদিমা। একই পরিস্থিতি দেখে তাদের উদ্ধার করতে একে একে কূপে নামেন এলাকার জামাই গাব্রিয়াল এবং সবশেষে প্রতিবেশী রতন নকরেক। একে একে কূপে নামা চারজনের কারও সাড়া না পেয়ে কূপের মুখে থাকা স্থানীয়রা চিৎকার ও ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশকে খবর দেয়।
মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার জানান, খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে তাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কূপে চরম অক্সিজেন সংকট থাকায় বিশেষ প্রযুক্তি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ফায়ার ফাইটার মনিরকে কূপে নামানো হয়। এরপর মনির একে একে চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন টেলকি গ্রামের বাসিন্দা বাবুল হাদিমা (৪০), তার ছেলে নেইমার ম্রং (১২), এলাকার জামাই গাব্রিয়াল (৪০) এবং প্রতিবেশী রতন নকরেক (২৭)। নিহতরা সবাই স্থানীয় গারো নৃ-গোষ্ঠীর আদিবাসী সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে চারজনের লাশ গ্রহণ করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পরিত্যক্ত গভীর কূপে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বা অক্সিজেনহীনতার কারণে দম আটকে এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে উদ্ধারকারী দল।