
রাত পোহালেই বিশ্বমঞ্চে আবারও নামছে আর্জেন্টিনা, এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় মাঠে নামবে আলবিসেলেস্তেরা। এই মহারণের আগে আর্জেন্টিনার বিগত ১৮টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের ইতিহাস ও তাদের সামগ্রিক যাত্রার দিকে তাকালে এক রোমাঞ্চকর চিত্র ফুটে ওঠে। ১৯৩০ সালের ১৫ জুলাই ফ্রান্সের বিপক্ষে লুইস মন্তির একমাত্র গোলে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ জিতেছিল আর্জেন্টিনা, যদিও সেবার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে হেরে তারা রানার্স-আপ হয়। তবে পরের আসরগুলো সব সময় সুখকর ছিল না। ১৯৩৪ সালে নকআউট পদ্ধতিতে সুইডেনের কাছে হেরে প্রথম ম্যাচেই বিদায় নিতে হয় তাদের। এরপর দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে ১৯৫৮ সালে ফিরলেও প্রথম ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির কাছে পরাস্ত হয় এবং পরে গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে যায়। ১৯৬২ সালে বুলগেরিয়াকে এবং ১৯৬৬ সালে স্পেনের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলেও যথাক্রমে গ্রুপ পর্ব ও কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় আলবিসেলেস্তেদের। ১৯৭০ সালে বাছাইপর্ব পার হতে না পারার চরম হতাশার পর, ১৯৭৪ সালেও পোল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করে দ্বিতীয় রাউন্ডে থামে আর্জেন্টিনার যাত্রা।
১৯৭৮ সালে ঘরের মাঠে হাঙ্গেরির বিপক্ষে কষ্টার্জিত জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১৯৮২ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এসে বেলজিয়ামের কাছে ধাক্কা খায় তারা। এর পরের আসর অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুরু হয় ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ জয়ের গল্প। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ১৯৯০ সালেও প্রথম ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে অঘটনের শিকার হয় আর্জেন্টিনা, যদিও সেবার তারা ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল। ১৯৯৪ সালে গ্রিসকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে বাতিস্তুতার হ্যাটট্রিক ও ম্যারাডোনার বুনো উদযাপনের স্মৃতি আজও ভক্তদের মনে দোলা দেয়, তবে মাঝপথে ম্যারাডোনার ডোপ টেস্ট পজিটিভ হওয়ার ধাক্কায় দ্বিতীয় রাউন্ডেই শেষ হয় তাদের পথচলা। এরপর ১৯৯৮ সালে জাপান এবং ২০০২ সালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার একমাত্র গোলে জয় পেলেও যথাক্রমে কোয়ার্টার ফাইনাল ও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে।
বিংশ শতাব্দীর পর ২০০৬ সালে নবাগত আইভরি কোস্টকে এবং ২০১০ সালে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে শুভসূচনা করলেও দুইবারই কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় আর্জেন্টিনার। ২০১৪ সালে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত গোলে বসনিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে উঠলেও অতিরিক্ত সময়ের গোলে আবারও সেই জার্মানির কাছেই শিরোপা হারায় তারা। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করে শুরুটা ভালো না হওয়ায় শেষ ষোলোতেই ফ্রান্সের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়। আর সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরে ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ভাঙার ধাক্কাটা এখনও সবার স্মৃতিতে টাটকা। তবে সেই ধাক্কা সামলে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা জিতেছিল তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ। সব মিলিয়ে ১৮টি আসরের প্রথম ম্যাচে ১১ জয়, ৬ হার ও ১ ড্রয়ের খতিয়ান নিয়ে এবার আরও একটি নতুন অধ্যায় লিখতে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা।