
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর গ্রুপ 'J'-এর ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের শক্তিশালী দল অস্ট্রিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান শক্তি জর্ডান। দীর্ঘ ২৮ বছর পর অস্ট্রিয়া বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরেছে, অন্যদিকে জর্ডানের জন্য এটি তাদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। রালফ রাংনিকের হাই-প্রেসিং ফুটবল বনাম জর্ডানের রূপকথার লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী ম্যাচটি ১৭ জুন ২০২৬, বুধবার সকাল ১০:০০ টায় ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
দলগত অবস্থান ও র্যাঙ্কিং ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অস্ট্রিয়া ২৪তম স্থানে অবস্থান করছে। তারা ইউরোপের অন্যতম গোছানো এবং টেকনিক্যালি দারুণ এক দল। কোচ রালফ রাংনিকের অধীনে তারা দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে এবং সবশেষ কোয়ালিফাইং ম্যাচগুলোতে আধিপত্য দেখিয়েছে। অন্যদিকে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৩তম স্থানে থাকা জর্ডানের বর্তমান শক্তি তাদের লড়াকু মানসিকতা। এশিয়ান কোয়ালিফায়ার্সের কঠিন পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া জর্ডানকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
অস্ট্রিয়ার সম্ভাব্য একাদশ (ফরমেশন: ৪-৩-৩) রালফ রাংনিকের অধীনে অস্ট্রিয়া হাই-প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য পরিচিত। এই ম্যাচে অস্ট্রিয়ার গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন Alexander Schlager। রক্ষণভাগে প্রাচীর তুলবেন Konrad Laimer, Kevin Danso, David Alaba এবং Phillipp Mwene। মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণে দেখা যাবে Xaver Schlager, Marcel Sabitzer এবং Florian Grillitsch কে। আর আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার মূল দায়িত্বে থাকবেন Christoph Baumgartner, Marko Arnautović এবং Sasa Kalajdzic।
জর্ডানের সম্ভাব্য একাদশ (ফরমেশন: ৩-৪-৩) কোচ জামাল সেলামির অধীনে জর্ডান তাদের গতিময় উইঙ্গারদের ব্যবহার করে কাউন্টার-অ্যাটাকে খেলার চেষ্টা করবে। জর্ডান দলের গোলরক্ষক হিসেবে থাকবেন বাছাইপর্বে দলের সেরা পারফর্মার Yazeed Abu Laylah। রক্ষণভাগ সামলানোর মূল দায়িত্বে থাকবেন Salem Al-Ajalin, Yazan Al-Arab এবং Abdallah Nasib। মধ্যমাঠে দলের হাল ধরবেন Ehsan Haddad, Nizar Al-Rashdan, Noor Al-Rawabdeh এবং Mahmoud Al-Mardi। আক্রমণভাগে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্সকে পরীক্ষায় ফেলতে প্রস্তুত থাকবেন দলের প্রধান তারকা Mousa Al-Tamari, Ali Olwan এবং Yazan Al-Naimat।
হেড-টু-হেড ও গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এর আগে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান কখনো একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। এটিই দুই দলের প্রথম দ্বিপাক্ষিক লড়াই। জর্ডানের ফুটবল ইতিহাসে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। তারা এশিয়ান কোয়ালিফায়ার্সে দুর্দান্ত পারফর্ম করে এই যোগ্যতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে দীর্ঘ ২৮ বছর পর অস্ট্রিয়া ফুটবল দল বিশ্বকাপে পুনরায় জায়গা করে নিয়েছে। জর্ডান তাদের সর্বশেষ প্রস্তুতি ম্যাচগুলোতে কিছুটা ভুগেছে, তবে রাংনিকের অস্ট্রিয়া টানা জয় নিয়ে মূল পর্বে এসেছে।
ম্যাচ প্রেডিকশন কাগজে-কলমে এবং অভিজ্ঞতার দিক থেকে এই ম্যাচে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে অস্ট্রিয়া। রাংনিকের হাই-ইনটেনসিটি প্রেসিং গেম জর্ডানের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হবে। জর্ডানের মূল ভরসা থাকবে ফ্রেঞ্চ ক্লাব মঁপেলিয়েতে খেলা তারকা উইঙ্গার মুসা আল-তামারির গতির ওপর। কাউন্টার অ্যাটাকে জর্ডান চমক দেখাতে চাইলেও অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙা তাদের জন্য বেশ কঠিন হবে। সামগ্রিক শক্তি বিবেচনায় এই ম্যাচে অস্ট্রিয়ার জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবে অস্ট্রিয়া ২-০ বা ৩-১ ব্যবধানে জয়ী হতে পারে।