
ব্রাজিলিয়ান পোস্টার বয় নেইমারের ইনজুরির কারণে মরক্কোর বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচে তাঁর খেলতে না পারাটা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল, যা পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন সেলেসাওদের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এখন ফুটবল বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন নেইমারের অনুপস্থিতিতে তাঁর পজিশনে প্রথম একাদশে কাকে সুযোগ দেবেন কোচ? আনচেলত্তি সরাসরি কোনো নাম প্রকাশ না করলেও ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের জোরালো গুঞ্জন এবং অনুশীলন সেশনের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ওয়েস্ট হ্যামের তারকা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার মূল একাদশে জায়গা পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। তবে তিনি সরাসরি নেইমারের ‘১০ নম্বর’ পজিশনের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের সঙ্গে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডের অগ্রভাগে থেকে খেলবেন। সেক্ষেত্রে কার্লো আনচেলত্তি দলকে ৪-২-৩-১ অথবা ৪-২-২-২ ফর্মেশনে মাঠে নামাতে পারেন, যেখানে উইঙ্গার হিসেবে বাঁ-প্রান্তে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ডানপ্রান্তে রাফিনিয়া আক্রমণ সামলাবেন এবং মূল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখা যাবে মাথেউস কুনিয়াকে।
রক্ষণভাগেও ইনজুরির ধাক্কায় কিছুটা বাধ্য হয়েই কৌশলগত পরিবর্তন আনতে হচ্ছে ব্রাজিলিয়ান থিঙ্কট্যাঙ্ককে। রাইট-ব্যাক ওয়েসলি চোট পেয়ে দল থেকে ছিটকে যাওয়ায় রক্ষণ সামলানোর গুরুদায়িত্ব পড়ছে অভিজ্ঞ দানিলোর কাঁধে। রক্ষণের বাঁ-প্রান্তে অ্যালিসন বেলির বদলে দেখা যেতে পারে অ্যালেক্স সান্দ্রোকে এবং সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জুড়ি বাঁধবেন মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালেস। তবে এই ম্যাচে ব্রাজিলের জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হতে পারে মরক্কোর বিশ্বসেরা রাইট-ব্যাক আশরাফ হাকিমি। হাকিমির গতি ও ওভারল্যাপিং আক্রমণ ঠেকাতে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে তাঁর চেনা আক্রমণাত্মক রূপের পাশাপাশি নিচে নেমে রক্ষণভাগকেও সাহায্য করতে হবে। গোলপোস্টের নিচে যথারীতি অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকছেন আলিসন বেকার। মরক্কোর জমাট রক্ষণ ও কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবলের বিপক্ষে ব্রাজিলের এই নতুন কম্বিনেশন কতটা সফল হয়, তার ওপরেই নির্ভর করছে ম্যাচের ভাগ্য।