
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র জনতার আন্দোলনকে বিশেষ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তাঁর বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই এই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তার বিশেষ কর্মসূচিও বাজেটে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ছাত্র জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এক নতুন স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে তার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াইয়ের পটভূমি স্মরণ করে বলেন, বিগত বছরগুলোতে জেকে বসা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এদেশের মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। দলটির ২০১৬ সালের ‘ভিশন ২০৩০’, ২০২২ সালের রাষ্ট্র মেরামতের ‘২৭ দফা’ এবং ২০২৩ সালের যুগপৎ আন্দোলনের ‘৩১ দফা’র রূপরেখাই মূলত স্বৈরাচার বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক জমিন তৈরি করেছিল। এই দীর্ঘ আন্দোলনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র জনতার সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থান সংঘঠিত হয়। অর্থমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি দেশের সাধারণ মানুষের এই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষাকে মনেপ্রাণে ধারণ করে এবং দলটির পক্ষ থেকে যে 'জুলাই জাতীয় সনদ' স্বাক্ষর করা হয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।