
ব্যবহারকারীদের জন্য ভিডিও শেয়ারিংয়ের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব আবারও অ্যাপের ভেতরে সরাসরি বার্তা আদান-প্রদানের (ডাইরেক্ট মেসেজিং) সুবিধা চালু করেছে। নতুন আঙ্গিকে এবং সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনে তৈরি এই চ্যাট ফিচারটি ধাপে ধাপে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও সিঙ্গাপুরের ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা পাচ্ছেন এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশেও এটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে গুগল-মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইউটিউবে ইন-অ্যাপ মেসেজিং সুবিধা চালু থাকলেও জনসম্মুখে আলোচনার অভিজ্ঞতা উন্নত করার অজুহাতে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালে এসে নতুন রূপে ফিরিয়ে আনা এই সেবার মূল উদ্দেশ্য হলো—ইউটিউবের বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট যেন ব্যবহারকারীরা অন্য কোনো অ্যাপের সাহায্য ছাড়াই নিজেদের মধ্যে শেয়ার করতে পারেন। ফিচারটি চালু হওয়া ব্যবহারকারীরা ইউটিউব অ্যাপের উপরের ডান পাশে একটি ডেডিকেটেড মেসেজিং আইকন দেখতে পাবেন, যা তাদের ব্যক্তিগত চ্যাট বক্সে নিয়ে যাবে।
অপ্রয়োজনীয় বার্তা, হ্যাকিং ও স্প্যামিংয়ের হাত থেকে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা দিতে ইউটিউব এবার একটি কঠোর আমন্ত্রণভিত্তিক ব্যবস্থা (Invitation System) চালু করেছে। অপরিচিত কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যবহারকারীরা সরাসরি বার্তা পাবেন না। চ্যাট শুরু করতে হলে প্রথমে এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ বা আইমেসেজের মতো তৃতীয় পক্ষের প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি ইনভাইটেশন লিঙ্ক পাঠাতে হবে। অপর প্রান্তের ব্যবহারকারী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেই কেবল তারা ইউটিউব কনট্যাক্ট হিসেবে যুক্ত হতে পারবেন।
নিরাপত্তার বিষয়ে ইউটিউব জানিয়েছে, ব্যক্তিগত চ্যাটেও ইউটিউবের অফিশিয়াল ‘কমিউনিটি গাইডলাইনস’ কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে। ফলে ক্ষতিকর, সহিংস বা অনুপযুক্ত কনটেন্ট শেয়ার করা মাত্রই অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নজরদারিতে পড়বে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় যেকোনো কনট্যাক্টকে ব্লক করা, কথোপকথন রিপোর্ট করা এবং পাঠানো বার্তা তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার (আনসেন্ড) করার সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে আয়ারল্যান্ড ও পোল্যান্ডে পরীক্ষার পর চলতি ২০২৬ সালের মার্চে ইউরোপের ৩০টি দেশে এর পরিধি বাড়ানো হয়; যার চূড়ান্ত বৈশ্বিক বিস্তার ঘটল এই জুনে।