
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পাওনা টাকা আদায় এবং জমিসংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুইপক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহত দুই নারীসহ চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মোল্লারহাট বাজারের উত্তর পাশে সলিংয়ের মাথাসংলগ্ন এলাকায় এই প্রকাশ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা ও পাওনা টাকা নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটনার সময় স্থানীয় আলমগীর চৌকিদার এবং সিরাজ ভাণ্ডারীর লোকজনদের মধ্যে প্রথমে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই এক রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে দুইপক্ষের নারীসহ ১০ জন আহত হলে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে:
পুলিশের তৎপরতা: সংঘর্ষের খবর পেয়ে রায়পুরের চরবংশী হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হক এবং এএসআই মো. সাইফুর রহমান সঙ্গীয় বিশাল পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
উদ্ধার ও চিকিৎসা: পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নারীসহ আহত হওয়া উভয়পক্ষের লোকজনকে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। বর্তমানে আহত সিরাজ ভাণ্ডারীসহ তার পরিবারের একাধিক সদস্য রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি: ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।
হাজীমারা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এএসআই মো. সাইফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, "খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনি এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। জমি ও টাকা পয়সা নিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। ভুক্তভোগী পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"