
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েন বা ফাটলের খবরকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার। হোয়াইট হাউস এবং তেল আবিবের মধ্যকার এই দূরত্বের গুঞ্জনকে রূপক অর্থে ব্যবহার করে তিনি মন্তব্য করেছেন দুই নেতার মধ্যকার এই সম্পর্কটি দীর্ঘ চার দশকের গভীর বন্ধুত্বের, আর এমন সম্পর্কে ‘প্রেমিক-প্রেমিকার মতো’ মাঝে মাঝে সামান্য ঝগড়া হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।
মার্কিন প্রভাবশালী গণমাধ্যম ফক্স নিউজকে (Fox News) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার ওয়াশিংটন-তেল আবিব সম্পর্কের অভ্যন্তরীণ নানা সমীকরণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত লেইটার একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ অনুরোধে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের তীব্রতা বা গতি কিছুটা কমাতে সম্মত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে আক্রমণের গতি কমানো হলেও ইসরাইলের মূল লক্ষ্য ও অবস্থান থেকে তারা বিন্দুমাত্র নড়েনি।
রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের আত্মরক্ষার অবস্থান ও ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতাকে পুরোপুরি বোঝেন এবং সম্মান করেন। ইসরাইল যে কোনোভাবেই নিজেদের ভূখণ্ডে ইরানের একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মুখ বুজে সহ্য করবে না এবং এর উপযুক্ত ও চরম জবাব দেবে সেই বিষয়টি ট্রাম্পের কাছে অত্যন্ত স্পষ্ট।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যকার দ্বিপাাক্ষিক ও সামরিক সহযোগিতা যে আগের মতোই অটুট রয়েছে, তা পুনর্ব্যক্ত করেন ইসরাইলি দূত।
হোয়াইট হাউস ও তেল আবিবের বর্তমান অক্ষ:
১. দীর্ঘমেয়াদি কৌশল: দুই নেতার মধ্যে বিগত চার দশক ধরে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বোঝাপড়া রয়েছে।
২. সামরিক সমন্বয়: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরামর্শ ও অনুরোধকে ইসরাইল গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
৩. অভিন্ন লক্ষ্য: তেহরানের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন ও ইসরাইল একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ যখন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বড় ধরনের ফাটল দেখছেন, তখন রাষ্ট্রদূত লেইটার দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই মিত্র দেশের মধ্যে যেকোনো কৌশলগত ও গোয়েন্দা বিষয়ে অসাধারণ এবং জোরালো বোঝাপড়া বজায় রয়েছে। সামান্য মতভেদ থাকলেও তা তাদের বৃহত্তর ঐতিহাসিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।
সূত্র: রয়া নিউজ