রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ব্যাপক আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অনেক রক্ত ঝরিয়ে এবং দীর্ঘ আন্দোলনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবসময় সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় প্রহরী হিসেবে কাজ করছে, তাই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো চক্রান্ত প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের পাহারাদারের মতো দায়িত্ব পালন করতে হবে।
হিন্দুধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসবকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন রিজভী। তিনি বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে থাকা এবং তাদের নিরাপত্তা বিধান করা বিএনপির দায়িত্ব। অতীতে দুর্গাপূজার সময় যেভাবে নেতাকর্মীরা দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এবারও রথযাত্রায় একইভাবে তাদের সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে এই উৎসবকে ঘিরে কোনো ধরনের উসকানি বা রাজনীতি করার সুযোগ না পায়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ এবং তারা বুঝতে পেরেছে কারা অতীতে বিভাজনের রাজনীতি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গরিব মানুষের কষ্ট লাঘবের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং হেলথ কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি নদী-নালা সজীব করতে খাল কাটার মতো বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীকে টিফিন দেওয়ার কর্মসূচি চলমান রয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে রিজভী সাধারণ মানুষের কল্যাণে এবং দেশের উন্নয়নে আগামী দিনেও একইভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই অনুষ্ঠানে বিএনপির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।