শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, ৫ আগস্টের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একার নয়। এটি মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী আপামর জনগণের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। তিনি ঘোষণা করেন, সরকার এই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদায় মূল্যায়ন করবে।
বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। অন্যায়কারী ও হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হবে, তবে তিনি একইসঙ্গে সতর্ক করে দেন যে, বিচারের নামে যেন কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি অবিচারের শিকার না হয়। তিনি বলেন, “প্রতিহিংসা নয়, আমাদের মূল দায়িত্ব হলো সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”
প্রধানমন্ত্রী তার নিজের পরিবার ও সহকর্মীদের ওপর গত ১৭ বছরের অমানবিক নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কষ্ট ও যন্ত্রণা থাকা সত্ত্বেও প্রতিহিংসার পথে না গিয়ে তিনি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে অধিক মনোযোগী। তিনি বলেন, “যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম মা, ১৭ বছরের অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে এখন প্রতিশোধ নিই? মা বলতেন, প্রতিহিংসা নয়, তোমার দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”
দেশকে দ্বিধাবিভক্ত না করে একতাবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করতে কোনো অপশক্তিকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তার সরকারের মূল লক্ষ্য হলো দেশের জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন। সম্মেলনে উপস্থিত জুলাই যোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশ গঠনের যে লক্ষ্য নিয়ে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছিল, সরকার সেই লক্ষ্য পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন