দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : Jun 9, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

এআই কবজায় নিতে বললেন ইসরাইলি গবেষক মায়া অ্যাকারম্যান

০ শেয়ার
এআই কবজায় নিতে বললেন ইসরাইলি গবেষক মায়া অ্যাকারম্যান
সংগৃহীত ছবি

ইসরাইলি এআই গবেষক, Dr Maya Ackerman AI, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ, control AI narrative, চ্যাটজিপিটি জেমিনি তথ্য, ChatGPT Gemini chatbots, মার্কিন ইহুদি কমিটি, American Jewish Committee AJC, মিডল ইস্ট আই, Israel Palestine narrative AI

সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • গোটা বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশাল দুনিয়া ম্যানেজ করার চিরাচরিত চেষ্টা বাদ দিয়ে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে নিজেদের কবজায় নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ইসরাইলি এআই গবেষক ডক্টর মায়া অ্যাকারম্যান।
  • প্রভাবশালী মার্কিন ইহুদি কমিটিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে ইসরাইলপন্থীরা এখন সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ও প্রচারণামূলক সমাধান নিয়ে সরাসরি এআই তৈরি করা জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর দ্বারস্থ হতে পারে।
  • অ্যাকারম্যান জোরালো ভাষায় দাবি করেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে ইসরাইল সমর্থকরা অতীতে বিশ্বজুড়ে নিজেদের অনুকূলে ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরির বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছিল।

গোটা বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশাল দুনিয়া ম্যানেজ করার চিরাচরিত চেষ্টা বাদ দিয়ে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে নিজেদের কবজায় নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত ইসরাইলি এআই গবেষক ডক্টর মায়া অ্যাকারম্যান। প্রভাবশালী মার্কিন ইহুদি কমিটিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন যে ইসরাইলপন্থীরা এখন সুনির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ও প্রচারণামূলক সমাধান নিয়ে সরাসরি এআই তৈরি করা জায়ান্ট কোম্পানিগুলোর দ্বারস্থ হতে পারে। অ্যাকারম্যান জোরালো ভাষায় দাবি করেন যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে ইসরাইল সমর্থকরা অতীতে বিশ্বজুড়ে নিজেদের অনুকূলে ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরির বড় সুযোগ হাতছাড়া করেছিল। তবে বর্তমান সময়ে এআই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে ইসরাইলপন্থী প্রচারণা বা প্রোপাগান্ডা সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটি বিরাট ও জাদুকরী সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত টিকটকসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মের কারণে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিন সংকটে ইসরাইলের পক্ষে জনসমর্থনে যে ব্যাপক ধস নেমেছে সেই চরম বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত করেন এই বিজ্ঞানী।

অ্যাকারম্যানের মতে এআই প্রযুক্তির সবচেয়ে দারুণ ও বৈপ্লবিক ব্যাপার হলো এটি যেমন প্রতিপক্ষের জন্য একটি বড় সহযোগী হয়ে উঠতে পারে ঠিক তেমনি ইসরাইলপন্থীরা যদি শুরুতেই এর ওপর আধিপত্য বিস্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় তবে এটি তাদের নিজেদের স্বার্থ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সামাজিক মাধ্যমের ট্রেন্ড মিস করার পর এআই এখন বিশ্বজুড়ে মানুষের তথ্যের প্রধান ও নির্ভরযোগ্য উৎসে পরিণত হচ্ছে। বর্তমানের সাধারণ মানুষ অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে এআই চ্যাটবটের উত্তরকে অন্ধের মতো বেশি বিশ্বাস ও ভরসা করে যা সামাজিক মাধ্যমের চেয়েও অনেক বেশি। তরুণ প্রজন্ম এখন গুগলে কোনো তথ্য খোঁজার চেয়ে ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি কিংবা গুগলের জেমিনির মতো এআই চ্যাটবটের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুঁকছে এবং খুব বড় সংখ্যায় এই বটগুলো ব্যবহার করছে বিধায় এটিই আগামী দিনের তথ্যের মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠছে।

অবশ্য অনেক ইহুদি ও ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠী এখনো এই বিষয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করছেন কারণ তারা মনে করেন ইন্টারনেট দুনিয়ার সিংহভাগ উৎস ও ডেটাবেজ ইতিমধ্যেই ইসরাইল বিরোধী বা তথাকথিত ইহুদি বিদ্বেষী পক্ষপাতমূলক তথ্যে সয়লাব হয়ে আছে যা এআই সিস্টেমগুলোও স্বাভাবিক নিয়মেই অনুকরণ করতে পারে। সহযোদ্ধাদের এমন ধারণাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে গবেষক অ্যাকারম্যান যুক্তি দেন যে এআই কোম্পানিগুলো এখন আর কোনো মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়া ইন্টারনেটের উন্মুক্ত ডেটার ওপর ভিত্তি করে সরাসরি উত্তর তৈরি করে না। বরং তারা চ্যাটবটগুলোর সুরক্ষার জন্য অ্যালাইনমেন্ট বা সুনিয়ন্ত্রিত বিন্যাসের মাধ্যমে তাদের আউটপুট বা চূড়ান্ত ফলাফল কঠোরভাবে নির্ধারণ করে দিচ্ছে। ফলে অ্যালগরিদমগুলো ইন্টারনেটে থাকা সাধারণ তথ্যকে হুবহু উপস্থাপন করার বদলে চ্যাটবট বা টেক্সট টু ইমেজ মডেলগুলো এখন ক্রমশ ব্যবহারকারীদের সেটাই দেখাচ্ছে যা পর্দার আড়ালে থাকা মূল কোম্পানিগুলো তাদের দেখাতে চায়।

এরপরই তিনি বিশ্বজুড়ে ইসরাইলি ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করতে এআই ফার্মগুলোর সঙ্গে সরাসরি ব্যাকডোর যোগাযোগের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার মোক্ষম পথ বাতলে দেন। অ্যাকারম্যান স্পষ্ট করে বলেন যে উইকিপিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমের বিশাল দুনিয়ায় প্রতিনিয়ত কী ঘটছে তা নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করার পেছনে পণ্ডশ্রম না করে সরাসরি বড় বড় এআই কোম্পানির কাছে স্পষ্ট প্রযুক্তিগত সমাধান নিয়ে যাওয়া উচিত কারণ ডিজিটাল জগতকে নিজেদের মতো করে সংশোধন ও সেন্সর করার জন্য প্রথমবারের মতো একটি মোক্ষম পথ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অ্যাকারম্যানের এই মন্তব্যকে বিশ্বজুড়ে ইসরাইলি লবির একটি বড় এবং নজিরবিহীন স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে ইসরাইলপন্থী গোষ্ঠীগুলো এআই প্রযুক্তিকে বিশ্বজুড়ে তাদের ভূরাজনৈতিক বয়ান ও প্রোপাগান্ডা নিয়ন্ত্রণের এক নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে যা এআই সিস্টেমে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন নীতির যৌক্তিক সমালোচনাকে প্রভাবিত বা চিরতরে সেন্সর করার অপচেষ্টা হিসেবে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ঢাকা ফাইলস ভেরিফাইড এডিটর

ঢাকা ফাইলসের প্রতিটি সংবাদ সম্পাদকীয় নীতি ও যাচাই প্রক্রিয়া মেনে প্রকাশ করা হয়। আমাদের সম্পাদকীয় নীতি পড়ুন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
1

জুলাই-আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা: সতর্কবার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

2

ফেনীর সোনাগাজীতে মুহূর্তের টর্নেডোতে লন্ডভন্ড গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫ পরিবার

3

টিগ্রেসের মাঠে ১০ বছরের জয়খরা কাটানোর অপেক্ষায় আন্তোনিও মোহামেদ

4

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ৫১২

5

France vs Sweden: FIFA World Cup 2026 Round of 32 Preview

6

রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ ও রাজনৈতিক দলগুলোর পালটাপালটি অবস্থান

7

অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্রতিরোধে নতুন আইন পাস: জেনে নিন শাস্তির মাত্রা

8

বাংলাদেশের হারে ভারতের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের পথ সহজ

9

হাম উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১২৭৩ আক্রান্ত

10

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালায় বড় পরিবর্তন