ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশ থেকে লুটপাট করা অর্থ ব্যবহার করে বিদেশ থেকে জুলাই বিপ্লবকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পলাতক দোসররা জুলাইয়ের বীরদের জনসমক্ষে ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করার ষড়যন্ত্র করছে।
রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘২য় জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-II ২০২৬)’-এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৬ বছরের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অমানবিক শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, সেই সীমাহীন অন্যায় থেকেই জুলাই বিপ্লবের জন্ম হয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, স্বৈরাচারের এই অপপ্রচার দেশের মানুষের স্মৃতি থেকে সেই নৃশংসতার ইতিহাস মুছে দিতে পারবে না।
জুলাই আন্দোলনকে সর্বস্তরের মানুষের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম হিসেবে উল্লেখ করে ডাকসু ভিপি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার চেতনার মতোই অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে বাংলাদেশ আবারো জেগে উঠেছিল। রিকশাচালক, শ্রমিক, কৃষক থেকে শুরু করে শিক্ষক ও শিল্পী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বিপ্লবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। তিনি বলেন, জুলাই কেবল ৩৬ দিনের একটি আন্দোলন ছিল না, এটি একটি নতুন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার দীর্ঘ যাত্রার সূচনা।
বিপ্লব-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও সংস্কার প্রসঙ্গে সাদিক কায়েম বলেন, রাতারাতি একটি দেশকে ন্যায়বিচারের স্বর্গরাজ্যে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। মানুষের মধ্যে কিছুটা হতাশা থাকা স্বাভাবিক হলেও, তা যেন জুলাই বিপ্লবের গৌরবকে ক্ষুণ্ন না করে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা যদি ফের রাজনৈতিক জীবনে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখে, তবে দেশের মানুষ তাদের সেই সুযোগ দেবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), ইউনিভার্সিটি অফ রেজিনা (কানাডা), নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (সিঙ্গাপুর) এবং ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি (ওয়াইবিএফ)-এর যৌথ আয়োজনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে সাদিক কায়েম দেশের প্রতিটি স্বাধীনতাকামী নাগরিককে অর্জিত সাফল্য রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ গড়তে নিজেদের আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন