গাইবান্ধা শহরের বাংলাবাজারে অবস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শহীদ মিনারের পিলারের টাইলস হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ আহসান হাবীব নামের এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা শহরের বাংলাবাজারে অবস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শহীদ মিনারের অবমাননা ও পিলারের টাইলস ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই প্রশিক্ষকের নাম মোহাম্মদ আহসান হাবীব। শহীদ মিনারের পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করার এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমান গণমাধ্যমকে জানান, এর আগে গত ১৮ অক্টোবর অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীব ফেসবুক লাইভে এসে শহীদ মিনারের ওপর উঠে অবমাননাকর বক্তব্য দেন এবং সেখানে লাথি মারেন। এই ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতেও রয়েছে। ওই সময় ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে দাপ্তরিকভাবে অভিযোগপত্র পাঠানোসহ গাইবান্ধা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
অধ্যক্ষ আরও জানান, গত রবিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানে এসে খোঁজখবর নেন। এর পরদিনই সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক আরও উগ্র আচরণ করেন এবং হাতুড়ি দিয়ে শহীদ মিনারের মাঝের একটি পিলারের নিচের বেশ কিছু টাইলস ভেঙে ফেলেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতীক এই শহীদ মিনারে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।