রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচ থেকে পাথরে বাঁধা অবস্থায় আরাফাত নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় নৌকার মালিক আটক।
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির তলদেশ থেকে শরীরে ভারী পাথর বাঁধা অবস্থায় আরাফাত নামের এক তরুণ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নৌকার মালিক মো. শফিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার বিকেলে জেলার বরকল উপজেলার সুবলং ইউনিয়নের জোড়াটিলা এলাকার কাপ্তাই হ্রদ থেকে স্থানীয় ডুবুরি দলের সহায়তায় লাশটি ডাঙায় তোলা হয়।
হত্যাকাণ্ডের শিকার তরুণ আরাফাত ওই এলাকায় কাচকি মাছ ধরার নৌকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ১৩ অক্টোবর রাত থেকে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে লংগদু উপজেলার মহালছড়ি এলাকা থেকে নৌকার মালিক শফিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। আটকের পর শফিকের দেওয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে বরকলের সুবলং জোড়াটিলা এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালানো হলে তলিয়ে যাওয়া লাশটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ তরুণকে শরীরে পাথর বেঁধে কাপ্তাই হ্রদের নিখাদ পানিতে ফেলে দিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। শরীর থেকে যেন লাশ ভেসে উঠতে না পারে, সে জন্যই পরিকল্পিতভাবে ভারী পাথর বেঁধে হ্রদে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মূল রহস্য উন্মোচনে আটক শফিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও নেপথ্যের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।