পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে ৫.৭ মাত্রার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। খুজদার জেলা থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে উৎপন্ন হওয়া এই ভূমিকম্পে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ঐতিহ্যবাহী প্রদেশ বেলুচিস্তানে ৫.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) স্থানীয় সময় বেলা ১০টা ৬ মিনিটে পুরো অঞ্চলজুড়ে এই তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের সিসমিক শাখা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বেলুচিস্তানের খুজদার জেলা শহর থেকে আনুমানিক ৪৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই ভূমিকম্পটির মূল উৎপত্তিস্থল বা উপকেন্দ্র অবস্থান করছিল।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি হওয়ায় খুজদারসহ এর সংলগ্ন দুই জেলা খারান ও কালাতে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে অগভীর এই ভূমিকম্পের পরও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা প্রধান প্রধান ভবন ধসে পড়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তা সত্ত্বেও, উৎপত্তিস্থলের নিকটবর্তী গ্রামীণ অঞ্চলের দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা বাড়িঘরগুলোর ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
ভূবিজ্ঞানীদের মতে, ভূপৃষ্ঠের ৭০ কিলোমিটারের কম গভীরতায় উৎপন্ন ভূমিকম্পগুলোকে ‘অগভীর ভূমিকম্প’ বলা হয়, যা গভীর থেকে আসা কম্পনের তুলনায় সরাসরি ভূপৃষ্ঠে অনেক বেশি তাণ্ডব ও শক্তিশালী ত্বরণ সৃষ্টি করতে পারে। ভূপৃষ্ঠের অনেক নিচে গভীর ভূ-কম্পনের ক্ষেত্রে শক্তি ওপরের দিকে ওঠার সময় ক্রমান্বয়ে তা হ্রাস পায়। কিন্তু মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে তৈরি হওয়া ভূ-কম্পন সরাসরি তীব্র ঝাঁকুনি ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে মাটির ইটের তৈরি বা অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল ঘরবাড়িতে দ্রুত ফাটল দেখা দেয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ভীতি সৃষ্টি হয়।
ভূতাত্ত্বিক গঠনের দিক থেকে ৩ লাখ ৪৭ হাজার ১৯০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বেলুচিস্তান অত্যন্ত ঝুঁকি ও জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গঠিত। বিশ্বের তিনটি অন্যতম প্রধান টেকটোনিক প্লেট ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং অ্যারাবিয়ান প্লেটের একটি অত্যন্ত সক্রিয় সংযোগস্থলে এই অঞ্চলের অবস্থান। এই টেকটোনিক চ্যুতির প্রতিনিয়ত নড়াচড়ার কারণে বেলুচিস্তানে প্রায়শই মাঝারি থেকে শুরু করে তীব্র মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে থাকে, যা স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ।