ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যকে ভেঙে পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড ও হারীত প্রদেশ,এই চার ভাগে বিভক্ত করার দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ওম প্রকাশ রাজভর।
ভারতের সবচেয়ে জনবহুল ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশকে খুব শিগগিরই ভেঙে চারটি নতুন রাজ্যে পরিণত করা হতে পারে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী এবং সোহেলদেব ভারতীয় সমাজ পার্টির (এসবিএসপি) প্রধান ওম প্রকাশ রাজভর। আম্বেদকরনগরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান এবং বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেন।
জনসভায় ওম প্রকাশ রাজভর জানান, দেশে আসন্ন জাতি শুমারি বা সেন্সাস সম্পন্ন হওয়ার পরপরই উত্তর প্রদেশ রাজ্য ভাগের এই বড় প্রশাসনিক কাজ শুরু হবে বলে তাকে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশাল উত্তর প্রদেশ রাজ্যটিকে ভেঙে যে চারটি নতুন রাজ্য গঠন করা হবে সেগুলো হলো,পূর্বাঞ্চল, মধ্যাঞ্চল, বুন্দেলখণ্ড এবং হারীত প্রদেশ। এর মধ্যে ‘পূর্বাঞ্চল’ রাজ্য গঠিত হলে সেখানে রাজভর জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকায় এই সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধিই সেখানকার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আসন্ন ২০২৭ সালের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই নেতার এমন মন্তব্য রাজ্যটির রাজনীতিতে পুরোনো রাজ্য ভাগের বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সুশাসনের স্বার্থে বিশাল আয়তনের এই রাজ্যটিকে ছোট ছোট প্রদেশে বিভক্ত করার দাবি রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ দিন ধরেই চলে আসছে। এর আগে ২০১১ সালে মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বহুজন সমাজ পার্টির সরকার বিধানসভায় উত্তর প্রদেশকে চার ভাগে ভাগ করার একটি প্রস্তাব পাশ করলেও তৎকালীন কেন্দ্র সরকারের অনুমোদন না পাওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এদিনের সমাবেশে রাজ্য ভাগের পাশাপাশি অনগ্রসর শ্রেণীর (ওবিসি) জন্য নির্ধারিত ২৭ শতাংশ কোটার সুযোগ-সুবিধা যেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ সমানভাবে উপভোগ করতে পারে, সে বিষয়েও বিশেষ জোর দেন ওম প্রকাশ রাজভর। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দেশব্যাপী আসন্ন জাতি শুমারির মধ্য দিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রকৃত পরিসংখ্যান উঠে আসবে এবং সবার জন্য ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সহজ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের আঞ্চলিক ও জাতভিত্তিক দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।