সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং তা বিদেশে পাচার করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও আরামিট গ্রুপের মালিক সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ মোট ২৯ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের সহকারী পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজীর আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধানী নথি অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির জুবিলী রোড শাখা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা থেকে আরামিট সিমেন্ট পিএলসির নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ উত্তোলন করা হয়। এই বিশাল অংকের ঋণ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কাঁচামাল আমদানির কথা বলে সম্পূর্ণ ভুয়া বিল-ভাউচার দাখিল করা হলেও বাস্তবে কোনো ধরনের বৈধ ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তী সময়ে সাজানো বা ভুয়া সরবরাহকারী তৈরি করে বিল অনুমোদন করিয়ে ঋণের অর্থ নগদে উত্তোলন, স্থানান্তর এবং তার একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়। পাচারকৃত সেই অর্থ দিয়ে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে অঢেল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলার অভিযুক্তদের তালিকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ছাড়াও তার স্ত্রী তথা আরামিট সিমেন্ট পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান, আরামিট গ্রুপের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়েছে যে তৎকালীন মন্ত্রী হিসেবে নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাইফুজ্জামান চৌধুরী পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে প্রভাব খাটিয়ে এই ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছিলেন। বর্তমানে আসামিদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, মানিল laundering বা অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
মন্তব্য করুন