পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করল বিজেপি সরকার। রোববার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। নতুন এই বাজেটে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার। এছাড়া পূর্ববর্তী সরকারের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ৮ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা সত্ত্বেও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছে বর্তমান সরকার [cite: অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার।]।
নতুন সরকারের এই প্রথম বাজেটে বেশ কিছু জনমুখী ও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে:
মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হলে মোট ডিএ-র পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৮ শতাংশে।
কর্মসংস্থান: সরকারি দপ্তরে ধাপে ধাপে এক লাখ শূন্যপদে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশ পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে [cite: অর্থমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ধাপে ধাপে এক লাখ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। এসব পদের এক-তৃতীয়াংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।]।
সামাজিক প্রকল্প: আগের সরকারের সময়কার জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলো বন্ধ হওয়ার যে আশঙ্কা বিরোধীদের মধ্যে ছিল, তা নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সব প্রকল্প বহাল রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনা: খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই যোজনার জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নারীদের জন্য বিনা ভাড়ায় বাসযাত্রা: কর্মজীবী ও নিম্নআয়ের নারীদের সহায়তায় এই প্রকল্পের জন্য ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং এর আওতায় বিশেষ পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে [cite: নারীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে বিনা ভাড়ায় বাসযাত্রা চালুর লক্ষ্যে ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।]।
বিধায়ক তহবিল: স্থানীয় উন্নয়নের গতি বাড়াতে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের বার্ষিক বরাদ্দ ৭০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে [cite: জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়নমূলক কাজের সুযোগ বাড়াতে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের বার্ষিক বরাদ্দ ৭০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ কোটি টাকা করা হয়েছে।]।
পেনশন ও ভাতা: অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা পেনশন এবং রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি ছিলেন এমন ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে [cite: অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা পেনশন চালুর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি ছিলেন এমন ব্যক্তিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থাও ঘোষণা করা হয়েছে।]।
বিজেপি সরকারের এই বাজেট রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কৌশলী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামাজিক প্রকল্পগুলো বজায় রেখে সরকার নিজেদের জনমুখী ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করেছে। তবে বিরোধী শিবির এই ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রাগুলো বাস্তবে কতটা পূরণ হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে এই সরকারের গ্রহণযোগ্যতা। সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও, বাজেটটি পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করল বলে মনে করা হচ্ছে [cite: অন্যদিকে বিরোধীরা ইতোমধ্যে বাজেটের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাদের দাবি, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সরকারের সাফল্য নির্ধারিত হবে।]।
আপনার কি নতুন বাজেটে বরাদ্দকৃত নির্দিষ্ট কোনো খাতের বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে আরও জানার প্রয়োজন আছে?
মন্তব্য করুন